Bihan-man

শেষ বয়সে বৃদ্ধের একটাই লক্ষ্য– সবচাইতে বেশি সংখ্যক টিকা নেওয়া। তাই মনের সুখে একের পর এক টিকা নিয়ে চলেছিলেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিহারের মাধেপুরা জেলায় এই অত্যাশ্চর্য ঘটনাটি ঘটেছে।


বিহারের মাধেপুরা জেলার পুরাইনি গ্রামের নিবাসী ব্রহ্মদেব মন্ডলের বয়স ৮৪ বছর। তিনি ইতিমধ্যেই ১১বার করোনা টিকা নিয়ে নিয়েছেন, ১২ বারের বেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে ধরা পড়ে যান। ধরা পড়ে তিনি একটুও কুন্ঠিত বোধ করেননি। নিজের মুখেই সমস্ত স্বীকার করেছেন। বারংবার টিকার ডোজ নিতে গিয়ে তিনি নিজের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড একাধিক পরিচয়পত্র এবং ফোন নম্বর এমনকি স্ত্রীর ফোন নম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করেছেন।

পোস্ট অফিসে চাকরি করতেন ব্রহ্মদেব মন্ডল। ইনি বেশ কিছুদিন অন্তর বিভিন্ন তারিখে একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিয়েছেন। প্রথম ডোজটি তিনি ২০২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পুরাইনির পিএইচসি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এর ঠিক একমাস পর ১৩ মার্চ ওই একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দ্বিতীয় ডোজটি নেন। ৮৪ বছরের বৃদ্ধ দুটি ডোজ নিয়েও ক্ষান্ত হননি। অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে পরপর ১১ বার টিকা নিয়ে ফেললেন! আরো একবার নিতে গিয়েই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের হাতে ধরা পড়ে যান। কিন্তু কেন এমন করলেন তিনি? বৃদ্ধ ব্রহ্মদেব বলেছেন, “সরকার দুর্দান্ত একটি জিনিস বানিয়েছে। আমার ইচ্ছে হয়েছিল অনেক অনেক টিকা নেব।”


৮৪ বছরের ব্রহ্মদেব মন্ডলের কাছে করোনার টিকা খুব লোভনীয় একটি বিষয়! অভিনব তাঁর এই ইচ্ছা! তবে তার চেয়েও আশ্চর্য ব্যাপার , আধার কার্ড ব্যবহার করার পরেও এতগুলি ভোটার কার্ড কীকরে জোগাড় করলেন তিনি! ইচ্ছে থাকলেই অবশ্য উপায় হয়। তবে এই মূহুর্তে যেখানে ভারতের মাত্র ৬৪ শতাংশ মানুষজন টিকার দুটি ডোজ পেয়েছেন, অধিকাংশই বাকি, সেখানে এমন একটি ঘটনা হয়রান করে বৈকি! সেটা বৃদ্ধকে কে বোঝাবে ?

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com