IMG_20220324_124909

রামপুরহাটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। একদিকে যখন চলছে শাসক বিরোধী উভয় দলের তুমুল তরজা। তার মধ্যেই গতকাল ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা দিতে ভোলেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আয়োজিত গ্যালারি উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় রামপুরহাটের ‘জঘন্য অপরাধের’ প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের কাছে ‘দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির’ দাবি তোলেন। পাশাপাশি রাজ্যকে তদন্তে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।


রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে তৃণমূলের পঞ্চায়েত উপপ্রধান ভাদু শেখ খুন হবার ঠিক পরেই একদল দুষ্কৃতী এলাকায় ঢুকে তান্ডবলীলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এই নারকীয় ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নারী শিশু সহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূল নেতা খুন হবার পরেই এমন ঘটনার ফলে স্বভাবতই আঙুলটা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের দিকেই উঠেছে। বিজেপির দাবি, এই পুরো ঘটনাটাই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের। বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার রাজ্যে বিশৃঙ্খল অবস্থা তুলে এমনকি রাষ্ট্রপতি শাসনেরও দাবি তুলেছেন।


অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবিলম্বে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। গোটা রাজ্যই তৃণমূল কংগ্রেসকে অভিযোগের নজরে বিদ্ধ করছে। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যসরকারের উদ্দেশ্যে যে বার্তা দিলেন, তাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টিতেই দেখছে বিভিন্ন মহল।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যসরকারকে তদন্তে সহায়তার কথা উল্লেখ করে বলেন , “আশা করি সরকার অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি দেবে। বাংলার মানুষের কাছে আমার আবেদন, অপরাধীদের যারা প্রশ্রয় দেয় তাদের ক্ষমা করবেননা।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বক্তব্যে একাধারে যেমন নিরপেক্ষ তদন্তে সহায়তার মনোভাব দেখিয়ে বাংলার মানুষের আস্থাভাজন হবার চেষ্টা করেছেন, তেমনই সুকৌশলে ‘যারা অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়’ এই উল্লেখে রাজ্যের শাসকদলের দিকেই ইঙ্গিত করলেন কি? আসলে বর্তমান পরিস্থিতিতে শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষই দলমতের উর্দ্ধে উঠে স্বচ্ছ ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছেন, তাই মানুষের মনে দ্বন্দ্ব ক্রমাগতই বাড়ছে। ঘটনার প্রতিক্রিয়া সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com