IMG_20220112_172022

নুসরত জাহানের বিয়ের পর চটে গেছিলেন তসলিমা নাসরিন। এবার পরীমনির পালা। ফেসবুক পোস্টে আবার বিস্ফোরক মন্তব্য রাখলেন লেখিকা। সরাসরি নাম না করলেও বুঝতে অসুবিধা হয়না, এ পোস্ট আসলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনিকে লক্ষ্য করেই লেখা হয়েছে।


পোস্টে তসলিমা লিখেছেন, “সন্তান জন্ম দেওয়ার এত দরকার কেন? মেয়েরা, এমনকী প্রতিষ্ঠিত, সমাজের নানা নিয়ম ভেঙে ফেলা সাহসী মেয়েরাও, তিরিশ পার হলেই সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই ব্যাকুলতা কতটা নিজের জন্য, কতটা পুরুষতান্ত্রিক রীতিনীতি মানার জন্য? আমি কিন্তু মনে করি নিজের জন্য নয়, মেয়েরা সন্তান জন্ম দিতে চায় সমাজের দশটা লোকের জন্য। বাল্যকাল থেকে শুনে আসা শিখে আসা ‘মাতৃত্বেই নারীজন্মের সার্থকতা’ জাতীয় বাকোয়াস মস্তিস্কে কিলবিল করে বলেই মনে করে ইচ্ছেটা বুঝি নিজের।”


উল্লেখ্য, গত সোমবারেই নিজের মা হবার খবর এবং অভিনেতা শরিফুল রাজকে বিয়ের কথা সোশ্যাল মাধ্যমে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত নায়িকা পরীমনি। এই খবরে অনেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। খবরটা যে পরীমনির কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত ছিল সংশয় নেই। তবে নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন এই খবরে আঘাত পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি।


আসলে, নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন সমাজের যেসকল অগ্রগণ্য মেয়েদের ‘বাঘিনি’ ভেবে সপক্ষে আওয়াজ তোলেন , ঘটনাক্রমে একসময় তারা ‘বিড়ালে’ পরিণত হয়। যেমন হয়েছিল টলি নায়িকা নুসরতের বেলায়; সন্তানকে নিজের পরিচয় দিয়েই বড় করবেন বলে অবশেষে যশের গলায় মাল্যদান! ব্যাপক রেগে গিয়েছিলেন তসলিমা। খোলাখুলিই স্বীকার করেছিলেন, ‘যতটা বিপ্লবী মানসিকতার ভেবেছিলাম, নুসরত জাহান তেমন নয়। আর পাঁচটা মেয়ের সাথে তার আর তফাৎ রইল কোথায়?’ তেমনই আরো একবার লেখিকার ভুল ভাঙলো।


নিজের দীর্ঘ পোস্টে এরপর ডাক্তার ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা বিস্তারিত আলোচনায় জানিয়েছেন, সন্তান ধারণের ইচ্ছা বা ধারণা একটি সমাজ মারফত কেমন করে ‘মেয়েদের মগজে বাসা বাঁধে।’ এখানে যেমন মানুষের সাথে পশুর পার্থক্য বুঝিয়েছেন, তেমনই চাইলে কেউ এই ইচ্ছাকে কন্ট্রোল করতেও পারেন, লেখিকার সুচিন্তিত অভিমত এটাই।

প্রসঙ্গত, সাহসীনি পরীমনির একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে, যৌন নির্যাতন, একাধিক সম্পর্ক, মাদক মামলায় গ্রেপ্তার — প্রতিটি ক্ষেত্রে খোলাখুলিভাবে পক্ষ নিয়ে পুরুষ শাসিত সমাজের বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ তুলেছিলেন লেখিকা। সেই পরীমনি সন্তান, বিয়ে এসব চক্করে জড়িয়ে যাবেন, এটা মেনে নেওয়া একটু মুশ্কিল। তাই তাঁকে প্রতীকী রূপে সামনে রেখে সব মেয়েদের উদ্দেশ্যেই তসলিমার বার্তা, “এমন তো নয় যে এই গ্রহে মানুষ নামক প্রাণীর এত অভাব যে অচিরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই প্রজাতি!…পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা প্রায় আটশ’ কোটি। এত ভিড়ের পৃথিবীতে আপাতত কোনও নতুন জন্ম কাঙ্খিত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মেয়েরা যদি ভেবে নেয় জন্ম না দিলে তাদের জীবনের কোনও অর্থ নেই, তাহলে তারা যে ভুল তা তাদের বোঝাবে কে!

সন্তানের জন্ম তারা দিতেই পারে যদি এমনই তীব্র তাদের আকাঙ্খা, তারপরও এ কথা ঠিক নয় জন্ম না দিলে তাদের জীবনের কোনও অর্থ নেই। কোনও কোনও মানুষ তাদের জীবনকে শখ করে অর্থহীন করে। তাছাড়া কারও জীবনই অর্থহীন নয়। বরং যে ভ্রুণ আজও জন্মায়নি, সে ভ্রুণ অর্থহীন। পৃথিবীর প্রচুর শিক্ষিত, স্বনির্ভর, সচেতন মেয়ে বিয়ে করেনি। সন্তান জন্মও দেয়নি।”
এবার তসলিমার এই বক্তব্য কতজন মহিলা মেনে নিতে পারবেন সেটা তাঁদেরই ওপর নির্ভর করছে।

 

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com