Mousumi_Mohanty

মৌসুমী মোহান্তি। ওড়িশার ভদ্রকের এই মেয়েটির কথা এখন বহু মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। বিয়ে হয়েছিল মাত্র ৬ মাস। এরপরই চারপাশে করোনা পরিস্থিতি চরমরূপ ধারণ করে। ২০২১ সালের মে মাসে কোভিডে আক্রান্ত হন মৌসুমীর স্বামী অভিষেক মহাপাত্র। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীনই অবস্থা অবনতির দিকে যেতে শুরু করে। ডাক্তাররা জানান অভিষেকের এই মূহুর্তে ECMO অর্থাৎ Extracorporeal membrane oxygenation দরকার। কিন্তু সে চিকিৎসা বিপুল ব্যয়সাদ্ধ। এতটা আর্থিক স্বচ্ছলতা তাদের নেই।


উপায় না দেখে সোশ্যালমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানান তরুণী মৌসুমী। তাতে সাড়া পড়ে। অনেকেই চিকিৎসার জন্য সাধ্যমতো অর্থ পাঠাতে শুরু করেন। জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইটে করে স্বামীকে কলকাতায় নিয়ে আসেন মৌসুমী। কিন্তু শেষরক্ষা হয়না। মৌসুমীর স্বামী অভিষেক মারা যান। মৌসুমি দুঃখের সাথে জানিয়েছেন, “এখনও অনেকে টাকা পাঠাচ্ছেন। অথচ সেই মানুষটিই আর নেই। ওইসময় যেভাবে মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আর্থিক সহযোগিতা করেছেন, লকডাউনের মতো কঠিন সময়েও যেভাবে এগিয়ে এসেছেন তা সত্যি অভাবনীয়। আমি সেইসকল মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ।”

মৌসুমী ঠিক করেছেন, স্বামীর জন্য জমা হওয়া প্রায় ৪০ লাখ টাকা তিনি অন্যদের চিকিৎসার জন্য ত্রান তহবিলে দান করবেন। সেইমতো বাবার সঙ্গে জেলাশাসক অফিসে গিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন মৌসুমী। আর বাকি ১০ লাখ টাকা রেডক্রস সোসাইটিতে দান করেছেন। তাঁর এই পদক্ষেপ বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রত্যেকেই আশীর্বাদ করছেন মেয়েটিকে।

মৌসুমি জানান, “আমরা সবাই অতিমারির ফল ভোগ করছি। যদি একজনের জন্য রাখা চিকিৎসার টাকা অন্য কারুর কাজে লাগে তার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে। তাই এই সিদ্ধান্ত।”
এখানেই কিন্তু থেমে যাননি মৌসুমী। প্রচুর মানুষ তাঁকে ফোন করেছেন, যাদের চিকিৎসার জন্য অর্থ নেই। নিজের জমানো কিছু টাকা তিনি সেইসব মানুষের চিকিৎসার জন্য দিতে চান। এত বড় মন যাঁর, সেই মেয়েটির জীবন চলবে কীকরে? প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশংসনীয় তাঁর দৃঢ় মানসিকতা। এখন ইউপিএসসির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন মৌসুমী।

একসময় এটাই স্বপ্ন ছিল। পাকলিক সার্ভিসে প্রথম পরীক্ষাটা তো ইতিমধ্যে নিজের জীবনেই দিয়ে ফেলেছেন। সায়েন্স গ্র্যাজুয়েট মৌসুমী এবার খাতায়কলমে পরীক্ষায় সফল হয়ে নিজেকে পাবলিক সার্ভিসেই নিয়োজিত করতে চান। বাবা একটি প্রাইভেট সংস্থার চাকুরে। তিনিও মেয়ের এই স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর অসংখ্য মানুষের আশীর্বাদ-শুভেচ্ছা তো পাথেয় হিসেবে রইলই!

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com